Loading...

প্রথমবার যারা বিমানে ভ্রমণ করছেন, তাদের জন্যঃ

বিমানের টিকেট কেনার পর আপনি চাইলে সেটা প্রিন্ট করে নিতে পারেন, আপনার ফোনে বা মেইলে যে কপি পাবেন সেটাও ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। সে কোন এক ভাবে হলেই চলবে।

২। ডমেস্টিক ফ্লাইটে সাধারণত এক ঘন্টা আগে ও ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটে দুই ঘন্টা আগে এয়ার পোর্টে যাবার নিয়ম। কোন কারণে না পারলে ইমার্জেন্সি হিসাবে যথাক্রমে ত্রিশ মিনিট বা এক ঘন্টা আগে গেলেও উঠতে পারবেন। তবে তা রিস্কি হয়ে যায়।

৩। এয়ারপোর্টে প্রবেশের সময় সাধারণত বিমানের টিকেট, পাসপোর্ট (ডমেস্টিক ফ্লাইয়িং এর ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্র) দেখিয়ে প্রবেশ করতে হয়।

৪। প্রবেশের পর বড় কোন লাগেজ থাকলে লাগেজ স্ক্যানিং মেশিনে স্ক্যান করিয়ে সিকিউরিটি ট্যাগ লাগিয়ে নিতে হবে। এই স্ক্যানিং এরিয়া সাধারণত প্রবেশের পর গেটের পাশেই থাকে। প্রত্যেক এয়ারলাইন্সের নিজস্ব স্ক্যানিং মেশিন থাকে। ছোট লাগেজ যা আপনি হাতে বা কাধে বহন করবেন তা এখানে স্ক্যান না করালেও হয়।

৫। সাধারণত টিকেটের সাথে সাত কেজি ওজন পর্যন্ত হ্যান্ড ব্যাগ, আর বিশ কেজি ওজনের লাগেজ ফ্রি এলাউ করে। তাই খেয়ার রাখতে হবে যে ওজন যাতে সীমার মধ্যেই থাকে। বেশী হলে হয়তো আপনাকে অতিরিক্ত পে করতে হবে। আর লাগেজের সাইজ ব্যাপার না, তবে হ্যান্ড ব্যাগেজের সাইজ বেশী বড় হলে বিমানে উঠে রাখার সমস্যার পড়বেন। তাই, ছোট ব্যাকপ্যাক হলেই ভাল।

৬। লাগেজ স্ক্যান করে নির্দিষ্ট এয়ার লাইন্সের কাউন্টারে চলে যাবেন। সাধারণত দুই ঘন্টা আগে কাউন্টারে সার্ভিস শুরু হয়। ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট হলে একটা ইমিগ্রেশন কার্ড পূরণ করতে হবে। ডমেস্টিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এটার কোন প্রয়োজন নেই।

৭। নির্দিষ্ট কাউন্টারে যেয়ে আপনার টিকেটের ক্লাস (বিজনেস বা ইকোনমি) দেখে কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। উপরে টিভি পর্দায় আপনার ফ্লাইট নাম্বার লেখা দেখাবে, এবং সাথে আপনার গন্তব্য দেখাবে। সব ঠিক মিলে গেলে দাঁড়িয়ে থেকে আপনার টিকেট, পাসপোর্ট দেখিয়ে আপনাকে বোর্ডিং পাস নিতে হবে। এটা হল বিমানে উঠার মূল টিকেট। এখানে আপনার নাম, ফ্লাইট নাম্বার, গন্তব্য, কোন গেট দিয়ে বিমানে উঠতে হবে তা, কয়টায় বিমানে প্রবেশ করতে হবে সব লেখা থাকবে। আপনি যদি জানালার পাশে সিট নিতে চান তাহলে তা বোর্ডিং পাস নেবার আগে বলতে হবে।

৮। বোর্ডিং পাস হাতে পেয়ে একবার পড়ে দেখবেন, সব ঠিক আছে কীনা। এই কাউন্টারেই আপনার বড় লাগেজটা জমা নিয়ে নেবে এবং বোর্ডিং পাসে একটা অতিরিক্ত স্টিকার লাগিয়ে দেবে। একাধিক লাগেজের জন্য একাধিক স্টিকার লাগাবে। আর আপনার কাধের ছোট ব্যাগ বা হ্যান্ড লাগেজের জন্য সুতা লাগানো একটা ছোট ট্যাগ নিয়ে তা ব্যাগে লাগিয়ে নিতে নেবেন। এই হ্যান্ড ব্যাগ ট্যাগ কাউন্টারেই থাকে।

৯। এবার Immigration লেখা নির্দিষ্ট এলাকায় চলে যান। সেখানে অনেক মানুষ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বেল্ট দিয়ে প্যাঁচানো, আঁকাবাঁকা পথের লাইন ধরে আপনাকে ইমিগ্রেশানে যেতে হবে। সেখানে যেয়ে ইমিগ্রেশান অফিসারের কাছে পাসপোর্ট আর ইমিগ্রেশান কার্ড জমা দিন। উনি জিজ্ঞেস করতে পারেন, কোথায় যাচ্ছেন, কেন আচ্ছেন, আপনি চাকুরীজীবী হলে আপনার ভ্রমণের কোন পারমিশান আছে কীনা ইত্যাদি।এসব প্রশ্নের উত্তর স্বাভাবিক ভাবেই দেয়া ভাল। ইমিগ্রেশন নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

১০। ইমিগ্রেশন হয়ে গেলে এবার আপনাকে ‘সিকিউরিটি চেক’ এরিয়া পার হতে হবে। তারা আপনার শরীর ও সাথে থাকে ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র চেক করবে। এখানে এসেও নাইনে দাঁড়াতে হবে। আপনার সিরিয়াল এলে আপনার সাথে থাকা সব জিনিসপত্র (ঘড়ি, ফোন, মানিব্যাগ) একটা ট্রেতে দিতে পারেন বা চাইলে সাথে থাকা হাত ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়ে ব্যাগটা স্ক্যানিং এর জন্য স্ক্যান মেশিনে দিয়ে হাতে বোর্ডিং পাস নিয়ে চেকারের কাছে যেয়ে দুই হাত তুলে দাঁড়াবেন। উনি আপনাকে চেক করে আপনার বোর্ডিং পাসে সিল দিয়ে দেবেন। সাথে স্ক্যান হয়ে আসা আপনার হ্যান্ড ব্যাগে সিল দিয়েছে কিনা দেখে নেবেন। এবার উপরের টানানো নির্দেশিকা দেখা আপনার বিমান কোন গেট দিয়ে ছাড়বে তা বের করুন।

১১। এবার আপনার ফর্মালিটি মোটামুটি শেষ। আপনার বিমান যে গেট দিয়ে ছাড়বে, বর্ডিং পাসে তা দেখে সেই গেটের আশেপাশে যেয়ে চেয়ারে বসে অপেক্ষা করুন। এমন জায়গায় বসবেন যেন আপনার সামনে কোন টিভি স্ক্রিন থাকে যেখানে আপনি সহজেই আপনার ফ্লাইটের তথ্য পাবেন। সাধারণত বোর্ডিং পাসেই আপনার বিমানে উঠার সময় (বোর্ডিং টাইম দেয়া থাকে)। আর টিভি স্ক্রিনে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে সেখানে আপনার ফ্লাইটের নাম্বার, গন্তব্য, আর পাশে কি লেখা আছে। Check In লেখা মানে এখনো মানুষ আসছে, আর Boarding মানে এখন মানুষ উঠাচ্ছে বিমানে। এখানে বসে অবশ্যই আপনাকে আপনার নির্দিষ্ট গেট খেয়াল রাখতে হবে। এখানে আসার পর হাতে সময় থাকলে এয়ারপোর্ট ঘুরে দেখতে পারেন, অনেক স্টল থাকে, চাইলে আপনি কেনাকাটাও করতে পারেন। তবে আপনার বিমানের বোর্ডিং টাইমের আগে ফিরে আসুন। তবে যেহেতু বোর্ডিং পাস আপনার হাতে, বিমান আপনাকে না নিয়ে উড়বে না।

১২। বিমানে উঠানো শুরু হলে, লাইনে ধরে দাঁড়িয়ে এই গেট পার হতে হবে। এই পথই আপনাকে নির্দিষ্ট বিমান দেখিয়ে দেবে, বা নিয়ে যাবে, বা গেট দিয়ে বের হয়ে আপনাকে তারা বাসে করে নিয়ে বিমানে উঠাবে। বিমানে উঠে সিট খুঁজে নিয়ে আপনার সিটে বসে পড়ুন বা প্রয়োজনে বিমানবালার সাহায্য নিন। আর ভাল করে চারদিক খেয়াল রাখুন। আপনার লাগেজ উপরে লাগেজ হোল্ডারে ঢুকিয়ে দিন, ছোট হাত ব্যাগ হলে সাথে রাখতে পারেন।

১২। বিমান ছাড়ার সময় সিট ব্যাল্ট বেঁধে নিন। আর বিমান বালার দেয়া সব নির্দেশ মেনে চলুন। সমস্ত নির্দেশাবলী আপনার সামনেই রাখা আছে। সময় নিয়ে একটু পড়ে দেখতে পারেন। বিমানে ছবি উঠানো নিষেধ। তাই যা করবেন সাবধানে করবেন। এর জন্য কাইকে বিরক্ত করা যাবে না।

১৩। বিমানে খাবার দিলে, খেয়ে শেষ করুন, সাথে নিয়েও নিতে পারেন। উচ্ছিষ্ট অংশ অবশ্যই বিমানবালা কালেক্ট করবে তাই খাবারের পর তা হাতে রাখুন। আপনার কারণে অন্য কারো যাতে সমস্যা না হয় সে দিকে খেয়াল রাখুন। ইমারজেন্সি হলে আপনি বিমানে টয়লেট ব্যাবহার করতে পারবেন। পেছনে বা সামনে এসব টয়লেটের অবস্থান। টয়লেটে যেয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে কাজ শেষ করুন।

১৪। বিমান গন্তব্যে পৌঁছলে তাড়াহুড়া না করে ধীরেধীরে নামুন। আগমন বা Arrival গেট দিয়ে ঢুকে ইমিগ্রেশানে চলে যেয়ে সে দেশের ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরন করে কাউন্টারে চলে যান। এখানে অবশ্যই আপনার সে দেশের ঠিকানা, ফোন নাম্বার সহ উল্লেখ করতে হবে। এখানেও ইমিগ্রেশন অফিসার আপনাকে আপনার ভ্রমণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারে। সহজ ভাবেই সব প্রশ্নের উত্তর দিন। এখানে উপরের স্ক্রিনে বা মাইকে দেয়া ঘোষণাইয় জেনে যাবেন আপনার লাগেজ কয় নম্বর বেল্টে এসেছে, বা কাউকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিন। নির্দিষ্ট বেল্টে যেয়ে নিজের লাগেজ সনাক্ত করে নিয়ে, লাগেজ অফিসার দিয়ে বা নিজেই বোর্ডিং পাসে লাগানো লাগেজ ট্যাগের সাথে নাম ও নাম্বার মিলিয়ে নিয়ে ডিপারচার গেট দিয়ে বের হয়ে গন্তব্যে যান।

১৫। এসব এয়ারপোর্ট কার্যক্রম সব এয়ারপোর্টেই প্রায় একই রকমের। নিজের বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়েও অনেক সমস্যার সমাধান বের করা সম্ভব।